সায়ন ঘোষ, বনগাঁ : পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক পিতার নীরব আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের কাহিনি তুলে ধরছে ১১র পল্লী যুব গোষ্ঠী। ৬০তম বর্ষে তাদের পুজোর ভাবনা ‘অন্তরালে’। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে যিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও কষ্টকে আড়াল করে রাখেন, সেই পিতার অদেখা জীবনসংগ্রামই এবারের ভাবনার মূল বিষয়।
পরিবারের প্রতিটি সদস্যের স্বপ্নপূরণে একজন পিতার অবদান অপরিসীম। কখনও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই, কখনও সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার নিরলস প্রচেষ্টা— সবকিছুর মধ্যেই জড়িয়ে থাকে তাঁর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। অথচ পরিবারের সকলের সুখের কথা ভাবতে গিয়ে নিজের ক্লান্তি, যন্ত্রণা ও না-বলা কথাগুলি অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়। সেই চিরচেনা অথচ উপেক্ষিত বাস্তবতাকেই পুজোর ভাবনার মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে ১১র পল্লী যুব গোষ্ঠী।
‘অন্তরালে’ ভাবনার মধ্য দিয়ে পিতার ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও নিঃশব্দ ভালোবাসাকে নতুন করে উপলব্ধি করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। একজন পিতা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন, তিনি সন্তানের নির্ভরতার আশ্রয় এবং পরিবারের কঠিন সময়ের অন্যতম ভরসা। নিজের চাওয়া-পাওয়াকে পিছনে রেখে প্রিয়জনদের ভালো রাখার যে নিরন্তর প্রচেষ্টা, তা অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের চোখেই ধরা পড়ে না।
৬০তম বর্ষের এই ভাবনায় তাই উঠে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা— পরিবারের সুখের নেপথ্যে যাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি, তাঁর অনুভূতি ও আত্মত্যাগকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পিতার নীরব সংগ্রামকে সামনে এনে ১১র পল্লী যুব গোষ্ঠীর ‘অন্তরালে’ দর্শনার্থীদের মনে পিতার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে চায়।


