সায়ন ঘোষ, বনগাঁঃ দুর্গোৎসবের মরশুমে এ বার জেলায় জেলায় গিয়ে পুজোর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন কলকাতা থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করা হতো। তবে এ বছর সেই রীতিতে পরিবর্তন এনে সরাসরি পুজোমণ্ডপে উপস্থিত হয়ে উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারে তরফ থেকে।
কলকাতার পর মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফর ও পুজো উদ্বোধনের কর্মসূচি। এদিন প্রথমে নদিয়ার রানাঘাট ও কল্যাণীর পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেন তিনি। সব মিলিয়ে চারটি পুজোমণ্ডপের উদ্বোধন করেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বনগাঁর পুজোমহলে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়।
মঙ্গলবার বনগাঁর দুটি পুজোমণ্ডপ—গান্ধীপল্লি বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাব এবং মতিগঞ্জ ঐক্য সম্মিলনীর পুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজো উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি ছিল বিশেষ আগ্রহের বিষয়। গত কয়েক বছরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উদ্বোধনের যে ছবি দেখা গিয়েছিল, এ বার তার পরিবর্তে জেলায় এসে পুজো প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ দক্ষিনের বিধায়ক স্বপন মজুমদার-সহ বিজেপির একাধিক নেতা ও কর্মী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাসগুপ্ত, মহকুমা শাসক-সহ পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। এদিন প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দুই পুজোমণ্ডপের উদ্বোধন ঘিরে বিশেষ আবহ তৈরি হয়।
এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বনগাঁবাসীর উদ্যেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী জানান, "অনেক স্বপ্ন নিয়ে আপনারা আমাদের কে ক্ষমতায় এনেছেন। পুজোয় কোনও রাজনীতি নয়। পুজো এবার পরিবারের মতো করে এখানে হবে। পুজো মানেই এলাকার মানুষের একসঙ্গে কাজ করে মায়ের আরাধনা করা। সেই কাজ এখানে হবে। শুধু নিজেকে বদল করলে হবে না, তাহলেই মানুষ অনেকদিন রাখবে। পুজোয় সরকার এবং দফতর একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। আমি ধন্যবাদ জানাবো আমার মন্ত্রী ও বিধায়কদের তাঁদের আমন্ত্রনে আমি আসতে পেরেছি। তাঁদের সেই অধিকার আছে আমার প্রতি। তিনি আরও বলেন, “সরকার সহযোগিতা করেছে কাউকে কোর্টে যেতে হয়নি। বারো হাজারের বেশি সংখ্যা বেড়েছে পুজোর এবার।”
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর বনগাঁ সফরের খবর আগেই সামনে এসেছিল। গত রবিবার রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানান, ১৩ অক্টোবর গান্ধীপল্লি বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোমণ্ডপ উদ্বোধন করতে বনগাঁয় আসার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর কিছুক্ষন বাদেই হাবড়ার বিধায়ক তথা মতিগঞ্জ ঐক্য সম্মিলনীর অন্যতম প্রাণপুরুষ দেবদাস মণ্ডল তাঁর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেও জানান সেই কথা। সেই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সফর নিয়ে স্থানীয় পুজো উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়তে থাকে।
শেষ পর্যন্ত বনগাঁর দুই পুজোমণ্ডপের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর সফর বিশেষ গুরুত্ব পায়। কল্যাণী, রানাঘাট ও বনগাঁয় সরাসরি উপস্থিত হয়ে পুজো উদ্বোধনের এই কর্মসূচি এ বছরের দুর্গাপুজোয় বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ভার্চুয়াল উদ্বোধনের পরিবর্তে জেলায় গিয়ে পুজো প্রাঙ্গণে উপস্থিত হওয়ার এই উদ্যোগ ঘিরে বনগাঁর পুজোমহলে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।


